হংকংভিত্তিক বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী সিকে হাচিসন হোল্ডিংস লিমিটেডের খুচরা ব্যবসা ইউনিট এএস ওয়াটসন গ্রুপকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক এ গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য (ভ্যালুয়েশন) প্রায় ৩ হাজার কোটি (৩০ বিলিয়ন) ডলারে দাঁড়াতে পারে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন) বা মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই হংকং ও লন্ডন শেয়ারবাজারে এ দ্বৈত তালিকাভুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়েছে সিকে হাচিসন। খবর রয়টার্স।
সিকে হাচিসন এরই মধ্যে আইপিও নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ যাচাই শুরু করেছে। বৈশ্বিক এ আইপিও কার্যক্রম পরিচালনায় পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে আর্থিক খাতের জায়ান্ট গোল্ডম্যান স্যাকস ও ইউবিএস। এ গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে এএস ওয়াটসন প্রায় ২০০ কোটি ডলার সংগ্রহ করতে পারে বলে আগে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে জানা গেছে। তবে আইপিওর চূড়ান্ত সময়সূচি বাজারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পরিবর্তন হতে পারে।
এএস ওয়াটসন গ্রুপের ২৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ সংস্থা তেমাসেক হোল্ডিংস। সংস্থাটি ২০১৪ সালে প্রায় ৫৭০ কোটি ডলারে এ শেয়ার কিনেছিল। বর্তমান আইপিও পরিকল্পনার মাধ্যমে তেমাসেক তাদের হাতে থাকা সব শেয়ার বিক্রি করে এএস ওয়াটসন থেকে বিনিয়োগ তুলে নিতে চাইছে। এর আগে ২০১৯ সালেও তারা শেয়ার বিক্রির চেষ্টা করেছিল। তবে সে সময় কোনো চূড়ান্ত চুক্তি সই হয়নি।
সিকে হাচিসনের খুচরা ব্যবসায় বর্তমানে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) এ খাতের আয় আগের বছরের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৭০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। হংকংয়ের প্রখ্যাত ধনকুবের লি কা-শিং সিকে হাচিসন প্রতিষ্ঠা করেন।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিভিন্ন ইউনিট আলাদা করে তালিকাভুক্ত করার কৌশল নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে তারা বন্দর ব্যবসাও ২ হাজার ২৮০ কোটি ডলারে বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ কৌশলগত পরিবর্তনের মাধ্যমে সিকে হাচিসন তাদের বিভিন্ন খাতের প্রকৃত ব্যবসায়িক মূল্য বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরতে চায়।